post-thumb

প্রেসার কুকার সম্পর্কে।

প্রেসার কুকারঃ
প্রেসার কুকার হল স্টেনলেস স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি একটি শক্ত পাত্র। এটি একটি পাতিল/সিলিন্ডার আকারের যন্ত্র যা উচ্চ চাপে খাবার রান্না করে।
প্রেসার কুকারে খাবার রান্না করার ফলে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং খাবারের স্বাদ ও গুনগত মান বজায় থাকে।


প্রেসার কুকারের বৈশিষ্ট্যঃ
পাত্রটির মুখে রাবার গ্যাসকেটের সাহায্যে একই পদার্থের তৈরি একটি ঢাকনা বায়ুনিরুদ্ধভাবে আটকানো থাকে। ঢাকনার মাঝখানে একটি সরু ছিদ্রের মুখে একটি পিন ভাল্ব/রেগুলেটর লাগানো থাকে।
পিন ভাল্বটির/রেগুলেটর ওজন এমন করা হয় যাতে কুকারের মধ্যে জলীয় বাষ্পের চাপ, প্রায় দ্বিগুন বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমান হয়। এই চাপে কুকারের জলের স্ফুটনাঙ্ক প্রায় 120°C হয়।
পিন ভাল্বের/রেগুলেটর কিছু দূরে ঢাকনার উপরে একটি সেফটি ভাল্ব থাকে। এছাড়া উত্তপ্ত অবস্থায় কুকারটিকে ধরার জন্য তাপের কুপরিবাহী একটি হাতল থাকে।


প্রেসার কুকার কেন ব্যবহার করব?
ব্যস্ততার এই যুগে অনেকেই প্রেসার কুকারে রান্না করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ঝটপট রান্নার কাজ শেষ করতে চাইলে প্রেসার কুকারের বিকল্প নেই। আমাদের সময় ও এনার্জি বাঁচিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটেই প্রস্তুত করে দেয় প্রিয় খাবার।
সব উপকরণ দিয়ে প্রেসার কুকারে চাপিয়ে দিলেই কাজ শেষ। প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় বিধায় শতকরা ২৫ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয় হয়ে থাকে।

প্রেসার কুকারে রান্না তাড়াতাড়ি হয় কেন?
প্রেসার কুকারে সাধারণত তাপ ও চাপ প্রয়োগ করার মাধ্যমে রান্নার কাজ খুবই দ্রুত সম্পন্ন হয়ে থাকে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে আপনি যখন হাড়িতে বা কড়াইতে রান্না করে থাকেন সেখানে অতিরিক্ত তাপ থাকে
কিন্তু চাপ থাকে না যার কারণে রান্না হতে অনেক দেরি হয়ে থাকে। আর প্রেসার কুকার এর ভেতরে থাকা খাবার যতক্ষণ পর্যন্ত সিদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এর ভিতরের চাপ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।
পরবর্তীতে যখন চাপ অতিরিক্ত হয়ে যাবে তখন তাদের কারণে রান্নার দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যাবে। কেননা প্রচন্ড তাপের কারণে ভিতরে থাকা পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে যাবে। আর আমরা অনেকেই জানি তরল 
থেকে বাষ্পে গেলে আয়তন বৃদ্ধি পায় ও চাপ বেড়ে থাকে। আর এই কারণেই সাধারণত প্রেসার  কুকারে তাড়াতাড়ি রান্নার কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। 


প্রেসার কুকার সেট করার নিয়মঃ [ভিডিও দেখুন]
বাজার থেকে যখন কেউ প্রেসার কুকার কিনে আনবেন সর্বপ্রথম সেটি সেট করে নিতে হবে। [পণ্যটি ক্রয় করতে ক্লিক করুন।]
প্রেসার কুকার সেট করার নিয়ম খুবই সহজ। যে কেউ ইচ্ছে করলে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের প্রেসার কুকার টি সেট করে নিতে পারেন রান্নার জন্য।
সাধারণত প্রেসার কুকার টি কিনে আনার পর অনেকটা এলোমেলো এবং খোলা অবস্থায় থাকে। প্রথমে প্রেসার কুকারের ঢাকনাটির উপরে প্রেসার রেগুলেটারটি সুন্দর করে বসাতে হবে।
প্রেসার রেগুলেটরটি বসানো হয়ে গেলে প্রেসার কুকার এর বডির ভিতরে ঢাকনাটি ধীরে ধীরে ঢুকাতে হবে এবং আস্তে আস্তে নিচের দিকে চাপ দিয়ে সুন্দরভাবে লাগিয়ে ফেলতে হবে।
প্রেসার কুকার টি সেট করা হয়ে গেলে তারপরে এখানে রান্নার কাজ শুরু করা যাবে।

অন্য পোস্ট:

প্রেসার কুকারে কি কি রান্না করা যায়?
বর্তমান সময়ে আমরা প্রেসার কুকারের সাথে অনেকেই পরিচিত। অনেকের বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজে প্রেসার কুকার ব্যবহার করে রান্নার কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করে থাকেন।
প্রেসার কুকার এর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সকল রেসিপি রান্না করা যায়। প্রেসার কুকারে যাই রান্না করেন না কেন, পর্যাপ্ত পানি যোগ করতে হবে অবশ্যই। যেসব খাবার সেদ্ধ হতে বেশ দেরি হয়, সেগুলোই সাধারণত রান্না করা হয় এতে।
প্রেসার কুকারে যা যা রান্না করা যায়ঃ
গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডাল বা মুরগির মাংস যেমন রান্না করতে পারেন প্রেসার কুকারে; তেমনি পোলাও, বিরিয়ানি কিংবা খিচুড়িও রান্না করা যায় খুব সহজে। রান্না করতে পারেন ভাতও।
এছাড়াও কেক তৈরি করতে পারবেন, ইলিশ রান্না করতে পারবেন,বিস্কুট রুটি, ভাপা দই, চটপটি ও বুটের ডালের হালুয়া সহ আরো অনেক ধরনের রেসিপি প্রেসার কুকার ব্যবহার করেই তৈরি করতে পারবেন।

অন্য পোস্টঃ

প্রেসার কুকারে কিভাবে কি রান্না করব?
প্রেসার কুকারে মাংস রান্নার পদ্ধতি/গরুর মাংস রান্না করার নিয়মঃ
গরু ও খাসির মাংস রান্না করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। প্রেসার কুকারে চাইলে আপনারা দুই পদ্ধতিতে মাংস রান্না করতে পারেন।
প্রথম পদ্ধতি হলো মাংস প্রথমেই প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করে চর্বির পানিটুকু ফেলে দিয়ে এতে মশলা মাখিয়ে রান্না করা।
আর দ্বিতীয় যে পদ্ধতিটি রয়েছে সেটি হচ্ছে আগেই মসলা দিয়ে মাংস কষিয়ে নিতে হবে তারপর পানি দিয়ে প্রেসার কুকারে বসিয়ে দিতে হবে।
যার ফলে মাংসতে চর্বি থাকে না এবং কষানোটা ভালো হয় এবং মাংস ভালো সিদ্ধ হয়ে থাকে।  প্রেসার কুকারে মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ হতে কমপক্ষে ছয়টি সিটি বাজতে দিতে হয়।

প্রেসার কুকারে ভাত রান্নার নিয়মঃ
আপনি প্রেসার কুকারে ভাত রান্না করতে চাইলে নিম্নলিখিত নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন।
১. প্রথমে চাল ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে এবং প্রেসার কুকারের সসপ্যানে রাখতে হবে। চালের অনুপাতের ১.২ শতাংশ পানি দিতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ চাল নিবেন তার থেকে দ্বিগুণ পানি নিতে হবে।
২. প্রেসার কুকারের ভেতরে চাল ও পানি দিয়ে প্রেসার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে। প্রেসার কুকারে তিনবার লম্বা সিটি বাজলেই ভাত রান্নার কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।
আর যাদের প্রেসার কুকারে লম্বা সিটি বাজে না ছোট ছোট ছিটি বাজে তাদেরকে ৬ বার সিটি বাজা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এতে সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত সময় নিয়ে থাকে।
৩. ভাত সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঢাকনা খুলে ভাত প্রেসার কুকার থেকে বাহির করতে হবে।

অন্য পোস্টঃ 

রান্নায় প্রতিদিন প্রেসার কুকার ব্যবহারে জেনে নিন প্রয়োজনীয় কিছু টিপসঃ
তবে প্রেসার কুকার যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন, তারা প্রায়শই কিছু সমস্যার মুখোমুখি হন। যেমন প্রেসার কুকার উপচে খাবার পড়ে যাওয়া কিংবা প্রেসার 
কুকারের রাবার নষ্ট হয়ে যাওয়া।  প্রেসার কুকার রান্নাকে সহজ করে দেয় ঠিকই তবে সঠিক উপায়ে ব্যবহার না করলে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। 
প্রেসার কুকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব সতর্কতা জরুরি-
১। ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুন কোথাও কোনও ধরনের ফাটল আছে কিনা। ফাটল থাকলে সেটি বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
২। প্রেসার কুকারের ঢাকনাতে রাবারের রিং রয়েছে, এটাকে গ্যাসকেট বলে। কুকারের ভেতরে থাকা প্রেসারে রান্না হয় ঠিকঠাক, আর ভেতরের প্রেসার লিকেজ থেকে রক্ষা করে রাবার গ্যাসকেট।
গ্যাসে কুকার চাপানোর আগে দেখে নিন এই গ্যাসকেটটা ঠিকমতো ঢাকনায় লাগানো রয়েছে কিনা। 
প্রতিদিন রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার হলে গ্যাসকেট পরিষ্কার করুন। আর প্রয়োজন অনুযায়ী তিন মাস/ ছয় মাস/ প্রতি বছর এই গ্যাসকেট পরিবর্তন করুন।
 তাই রাবার গ্যাসকেট ঠিক মতো লাগানো আছে কিনা সেটা যাচাই করে নেবেন রান্নার সময়।
২। পানির পরিমাণ যেন সঠিক হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না দিলে যেমন খাবার সেদ্ধ হবে না, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি দিলে সিটির সঙ্গে বেরিয়ে পড়বে পানি।
খাবারের ধরন অনুযায়ী পানির সঠিক পরিমাণ নির্ধারিত হয়। প্রেসার কুকার সম্পূর্ণ ভর্তি করবেন না। দুই-তৃতীয়াংশ উপকরণ দেবেন কিংবা অর্ধেক ভর্তি করবেন।
পাশাপাশি পরিমাণমতো পানি দিয়ে প্রেসার কুকারের ঢাকনা আটকাবেন। খাবার বেশি থাকলে কিংবা পানি কম থাকলে প্রেসার কুকার ঠিকভাবে কাজ করবে না। আর পানি কম থাকলে খাবার ভালো করে সেদ্ধ হবে না।
৩। প্রেসার কুকারে সিটি বাজার সঙ্গে সঙ্গে চামচ বা খুন্তির সাহায্যে সব বাষ্প বাইরে বের করে দিন। এই বাস্প ভিতরে থেকেই গেলেই হতে পারে বিপদ। তখন প্রেসার কুকারের ঢাকনা খুলতে পারবেন না, আটকে যাবে।
৪। রান্না হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রেসার কুকারের ঢাকনা খুলতে যাবেন না। অন্তত পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন অথবা ঢাকনার উপর পানি ঢেলে দিন। তারপর ঢাকনা খোলার চেষ্টা করুন। ভেতরে থাকা ধোঁয়া ধীরে ধীরে বের হওয়ার পর ঢাকনা এমনিতেই খুলে যাবে।
গরম প্রেসার কুকার জোর করে খোলার চেষ্টা করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

পরিশেষেঃ
প্রেসার কুকার সংক্রান্ত যথা সম্ভব ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি তারপরেও যদি কোন ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

ছবির উৎসঃ dreamstime.com

Comments

Write Comment

OK! You can skip this field.